লিয়াকত হোসাইন লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি ॥ কাঁসা, বেগুন, গুড় এই তিনে মিলেই ইসলামপুর। এ অঞ্চলে বিশেষ করে গোল বেগুন দেশ বিখ্যাত। আর এই বেগুন চাষে স্বাবলম্বী হয়ে সচ্ছল জীবনযাপন করছেন উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক কৃষক। ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বতীরের উর্বর বেলে দোঁআশ মাটি বেগুন চাষের জন্য উপযোগী। তাই ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী,চরগোয়ালিনী, চরপুঁটিমারী, গাইবান্ধা,পলবান্ধা ও গোয়ালেরচর ইউনিয়নের কৃষকরা বেগুন চাষের ওপরই অধিকতর নির্ভরশীল।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার তীরবর্তী উর্বর বেলে দোঁআশ মাটিও বেগুন চাষের জন্য উপযোগী। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদের চরগুলোতে এ বছর ৮৫ হাজার মেট্রিক টন বেগুন উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নিয়ে এক হাজার ৪শত ৫০ হেক্টর একর জমিতে বিভিন্ন জাতের বেগুন চাষ হওয়ায় লক্ষমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ বেশি বেগুন উৎপাদন হয়েছে। চরাঞ্চলের কৃষকরা সকাল-বিকাল বেগুন ক্ষেত গেলেই পাচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। তাই তারা বেগুন টালকে টাকার গাছ হিসাবে উল্লেখ করেছেন।
উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের কান্দারচর গ্রামের কৃষক আজগর আলী বলেন, প্রতি বছরের মতো এ বছরও তিনি সাত বিঘা জমিতে বেগুন চাষ ইতিমধ্য দিগুন লাভ করেছি। বেগুন সবচেয়ে বড় অর্থকরী ফসল দাবি করে তিনি বলেন, বেগুন চাষে তার পরিবারের ভাত-কাপড় এবং বেগুন চাষেই চলে সারা বছরের খরচ।
একই সময় চরপুঁটিমারী ইউনয়নের আকন্দপাড়া গ্রামের শহিজল আলী বলেন, এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করতে সর্বোচ্চ খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। ওই খরচের টাকা বেগুন চারা রোপণের দুই মাসের মাথায় উঠে এসেছে। ওই ইউনিয়নের ডিগ্রীরচর গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, বর্তমানে তার জমিতে রোপণকৃত বেগুন গাছের বয়স প্রায় শেষ। এতে যা আশা করেছিলাম তার চেয়ে বেশীই পেয়েছি।
ওই গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, এ বছর এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করেছি। একইভাবে বেগুন চাষে স্বাবলম্বী হয়েছে গাইবান্ধা ইউনিয়নের তেঘুরিয়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন, মুছা সর্দার,ফজলুল হক, মজনু মিয়া, দানেছ আলী, ইন্তাজ আলী ও মোশারফ মন্ডলসহ উপজেলার নয় শতাধিক কৃষক।
ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, বেগুন চাষের এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ইসলামপুুরের অধিকাংশ বেগুন চাষিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। শীতকালীন বেগুন চাষে কৃষকদের সাথে সার্বক্ষনিক খোজ খবর রেখে পরামর্শ দেওয়ায় উৎপাদনে বেড়েছে। লাভবান হয়েছেন অনেক কৃষক।








